ছন্দে ছন্দে হোমিওপ্যাথি, সারায় যত রকম জ্বর ব্যাধি

ছন্দে ছন্দে হোমিওপ্যাথি, সারায় যত রকম জ্বর ব্যাধি

1.জ্বরে একোনাইট (aconitum napellus)

অবিরাম জ্বর ছটফট অতি
মৃত্যু ভয়ে অস্থির যেন নাই গতি
লেশ মাত্র ঘর্ম নাই শুস্ক গাত্রত্বক
বারে বারে জল খায় কাশে খক খক
ঝড় বেগে জ্বর আসে মরি মরি ভাব
একোনাইট ন্যাপ(aconitum nap) দিয়ে বাড়াও প্রভাব.

2.জ্বরে এগারিকাস (agaricus)

জ্বরে বিকারে এগারিকাস
অতি মূল্যবান
এলো মেলো কথা বলে নাই যেন জ্ঞান।
কথা বলে বিড় বিড়
কাঁপে থর থর
সহসা চিৎকার করে অতি ভয়ঙ্কর।
সজ্জা ছাড়িয়া রোগী
সোজা হয়ে বসে,
এগারিকাস (agaricus) দিয়ে দেখো
কেমনে বিকার নাশে।

3.জ্বরে আসাই (Asai)

আসাই এর জ্বরের প্রধান ঝান্ডা
ভিতরে কাপ হাত পা ঠান্ডা
প্রচুর ঘর্মে জ্বরের বিলুপ
আসাই (Asai) এর জ্বরের ইহাই স্বরূপ।

4.জ্বরে এন্টিম ক্রুড (antimonium crudum)

শোনো ডাক্তার ছাত্র ছাত্রী
এন্টিম ক্রুডের জ্বরের গতি.
সবিরাম কি স্বল্প বিরাম
সঙ্গে থাকে পেটের ব্যারাম।
জিহ্বা পুর ময়লা মাথা
চোখের চিহ্ন নিদ্রা আঁকা।
একদিন বিরাম একদিন জ্বর
শীতের পরে ঘর্ম দুসর।
জ্বর বিচ্ছেদে বমি কিংবা ঢেকুর উঠে
সব সুস্থ হয় এন্টিম ক্রুডে (antim crud) ।

5.জ্বরে এন্টিম টার্ট (antimonium tartaricum)

সর্দি কাশির সঙ্গে জ্বর
গলায় শব্দ ঘর ঘর
কফে ভরা বক্ষ ছিনা
কষলে তবু কফ উঠেনা
ঘর্ম দেখবে মাথায় বেশি
নাড়ীর গতি সর্বনাশী
শীতে নাড়ী পূর্ণভাব
এন্টিম টার্টের সঠিক স্বভাব
বমি কিংবা কাঠ বমি হয়
জ্বরের সময় নিশ্চিত নয়
যখন ইচ্ছা আস্তে পারে
এন্টিম টার্টেও (antim tart) সারাও তারে।

6.জ্বরে এপিসমেল (apismellis)

জ্বরের নাম কি এসে যায়
এপিসের নাই জ্বরের ভেদ
লক্ষণগুলি স্মরণ রাখলে
প্রয়োজনে হয়না খেদ।
বিকাল ৩:00 জ্বর আক্রমণ
লেশমাত্র নাই জল পিয়াস
জ্বর যদি হয় শীতের সাথে
জল খেতে চায় দু এক গ্লাস।
জ্বরের সাথে চিট চিটে ঘাম
স্থায়ী হয়না বেশিক্ষন
গাত্র দাহ প্রবল থাকে
সয়না জ্বালা অধিকক্ষণ।
ফোটা ফোটা মূত্র আসে
মূত্র মার্গ যায় জ্বলে
সব যাতনা লাঘব করে এপিস মেল্ (apismellis) খেলে।

7.জ্বরে ইগ্নেশিয়া (ignatia amara)

জ্বরে খাটে ইগ্নেশিয়া
প্রয়োগ লক্ষণ নাও শিখিয়া
শীতবস্থায় তৃষ্ণার অভাব
উত্তাপ ঘর্মে তৃষ্ণার অভাব।

8.জ্বরে বেলেডোনা (belladonna)

অগ্নিসম তাপ দেহে
মাঝে মাঝে ঘাম
মাথা ব্যাথা অত্যাধিক
করে ঘ্যান ঘ্যান
ভুত দেখে ভুল বকে
চমকানো ভাব
জ্বরে দেবে বেলেডোনা
মিলিলে স্বভাব।

উগ্রমূর্তি ভীষণ জ্বরে
সজ্জা ছেড়ে লাফায় জোরে
রক্ত জবা মুখ নাসিকা
জ্বরের ঘোরে প্রলাপ বকা
ভীষণ ঘষে দন্তে দন্তে
একটু কমে আবার অন্তে
উগ্র মূর্তি বেলেডোনা (belladonna)
জ্বর বিকারে নিখাদ সোনা।

9.জ্বরে ব্রায়োনিয়া (bryonia alba)

নড়নে বৃদ্ধি
নীরব নিঝঝুম
চোখ বুজে শুয়ে থাকে
যেন কত ঘুম।
টিপিলে আরাম পায়
ব্যাথায় শরীর
বমি করে মাথা ঘুরে
উঠাইলে শির।
কোষ্টকাঠিন্য থাকে
শুস্ক হয় কাশি
ব্রায়োনিয়া (bryonia) দিয়ে টরে
এই জ্বর নাশী।

10.জ্বরে জেলসিমিয়াম (Gelsemium)

দেহ মনে অবসাদ
পক্ষাঘাত হাল
তৃষ্ণা নেই বিন্দু মাত্র
ঘুমে নেত্রকাল
ঠান্ডা থাকে হস্তপদ
অগ্নিসম মাথা
শিশুতে এমন লক্ষণ
মিলে যথা তথা
সর্দি কাশি সঙ্গে থাকে কিংবা না থাকে
মাতৃশক্তি জেলসিমিয়াম (gelsemium) বার বার খাক।

11.আর্স-আয়োড বিচূর্ণ ৩x (Arsenicum iodatum)

দিবে পর পর
সহজে লাঘব হবে
কফ কাশি জ্বর।

12.জ্বর স্ট্র্যামোনিয়াম (stramonium)

একাধারে কেবল বকে
বকার যেন হয়না শেষ
লোক আলোকের অভাব হলে
বর্ধিত হয় রোগের ক্লেশ।
ছল ছল চোখ রক্তিম বদন
হাসে কাঁদে পাগল পনা
ঠাট্ট্রা করে করজোড়ে
জানায় যেন প্রার্থনা
ভয়ে ভীরু স্ট্র্যামোনিয়াম (stramonium)
মনের মাঝে নাও গেথে
জোর বিকারে দেবে যখন
পারো যেন ঠিক দিতে।

13.জ্বরে ক্রোটেলাস (crotalus atrox)

জ্বরের সাথে রক্ত পতন
ক্রোটেলাস (crotalus) এ হইবে নিবারণ।

14.জ্বরে আর্সেনিক (arsenic)

হিক্কা দিয়ে জ্বর আসে যার
পরম বন্ধু আর্সেনিক তার।

15. জ্বরে রাষ্ টক্স (Rush Tox)

জলে ভিজে জ্বর বাধালে
আরোগ্য হয় রাষ্ টক্স খেলে।

16. জ্বরে পালসেটিলা (pulsatilla)

জ্বর সাথে হাত পা জ্বালা
এই জ্বরে দাও পালসেটিলা
ওষুধ দিবে লক্ষ্য বুঝে
প্রতিবিন্দু লাগবে কাজে।
এগারিকাস

আপনার মন্তব্য লিখুন