স্বাস্থ্য উপকারিতায় আমলকি

বিশ্ব  সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহ তায়ালা মানব জাতির কল্যাণে দুনিয়ায় অগণিত জিনিস সৃষ্টি করেছেন। এরকম কোটি কোটি সৃষ্টির মধ্যে খুবই উপকারি ও ঔষুধি গুণে ভরপুর একটি  ফলের নাম আমলকি। দেশীয় ফল হিসেবে আমলকি সবার কাছেই পরিচিত।

ভেষজ গুণে অনন্য একটি ফল। এর ফল ও পাতা দুটিই ওষুধরূপে ব্যবহার করা হয়। বিভিন্ন অসুখ সারানো ছাড়াও আমলকি রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে দারুণ সাহায্য করে।

আসুন আমরা জেনে নেই আমলকির কিছু উপকারিতা-

১. আমলকিতে প্রচুর ভিটামিন সি থাকে।

আমলকিতে পেয়ারা এর চেয়ে ৩ গুণ ও

কাগজি লেবুর চেয়ে ১০ গুণ বেশি ভিটামিন সি রয়েছে।

কমলার চেয়ে ১৫ থেকে ২০ গুণ বেশি ভিটামিন সি রয়েছে।

আপেলের চেয়ে ১২০ গুণ বেশি ভিটামিন সি রয়েছে।

আমের চেয়ে ২৪ গুণ এবং কলার চেয়ে ৬০ গুণ বেশি ভিটামিন সি রয়েছে।

ভিটামিন সি এর অভাবে যেসব রোগ হয়। যেমন: স্কার্ভি, মেয়েদের লিউকরিয়া, অর্শ প্রভৃতি ক্ষেত্রে আমলকি খেলে উপকার পাওয়া যায়।

২. দাঁতের রোগ:  স্কার্ভি দাঁতের মাঢ়ির খুব পরিচিত একটি রোগ। সাধারণত শরীরে ভিটামিন ‘সি’-এর অভাবে স্কার্ভি রোগ হয়। এ রোগ হলে দাঁতের মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়া। মাড়িতে ঘা হওয়া। শরীর দুর্বল হয়ে যাওয়া। চামড়ার নিচে রক্তক্ষরণ হওয়া। চেহারা ফ্যাকাসে হয়ে যায়। ও হাড়ের মধ্যে পরিবর্তন দেখা দেয়। তাই কেউ যদি  প্রতিদিন মাত্র ১-২টি আমলকি খায়। তাহলে সে এসব থেকে পরিত্রান পেতে পারে।

৩. হার্টের রোগ:  হার্টের রোগীরা আমলকি খেলে ধরফরানি কমবে। এটি হৃদযন্ত্র, ফুসফুসকে শক্তিশালী করে। মস্তিষ্কের শক্তিবর্ধন করে। আমলকির আচার বা মোরব্বা মস্তিষ্ক ও হৃদযন্ত্রের দুর্বলতা দূর করে। শরীরের অপ্রয়োজনীয় ফ্যাট ঝরাতে সাহায্য করে। কোলেস্টেরল দূর করে ধমনীর ব্লক খুলে দিতে সাহায্য করে। নিয়মিত আমলকি খেলে হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস করে থাকে।

৪. তৃস্না মেটাতে: টাটকা আমলকি তৃষ্ণা মেটায়।

৫. প্রসাবে জ্বালাপোড়াঃ ঘন ঘন প্রস্রাব ও জ্বালাপোড়া হওয়া বন্ধ করে।

৬. পেটের পীড়া: আমলকি খেলে মুখে রুচি বাড়ে। এছাড়া পেটের পীড়া দূর করে। এসিডিটির হাত থেকে বাঁচা যায়।

৭. দীর্ঘমেয়াদী সর্দি, কাশি: সর্দি, কাশি ও রক্তহীনতার জন্যও খুবই উপকারী। আমলকির গুঁড়োর সাথে মধু মিশিয়ে দিনে ৩-৪ বার খেলে তা গলা ব্যথা দূর করে। এবং ঠান্ডা দূর করতে সাহায্য করে। দীর্ঘমেয়াদী কাশি-সর্দির জন্য আমলকির নির্যাস উপকারী।

৮.  পিত্ত: পিত্ত সংক্রান্ত যেকোনো রোগে সামান্য মধু মিশিয়ে আমলকি খেলে উপকার হয়।

৯. বমি হলে: বারবার বমি হলে শুকনো আমলকি এককাপ পানিতে ভিজিয়ে ঘন্টা দুই বাদে সেই পানিতে একটু চিনি মিশিয়ে খেলে বমি বন্ধ হয়।

১০. চোখের দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধিতে: প্রতিদিন ১/২ টি করে আমলকি খেলে, চোখের দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। এছড়াও চোখের বিভিন্ন সমস্যা যেমন চোখের প্রদাহ। চোখ চুলকানি বা পানি পড়ার সমস্যা থেকে রেহাই দেয়। আমলকি চোখ ভাল রাখার জন্য উপকারী। এতে রয়েছে ফাইটো-কেমিক্যাল, যা চোখের সঙ্গে জড়িও ডিজেনারেশন প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। আমলকিতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন এ রয়েছে। এছাড়া চোখ লাল হওয়া, চুলকানো রোধেও এটি বিশেষ ভূমিকা রাখে।

১১. ক্ষুধামন্দা দূর করে: আমলকি খিদে বাড়ায়, শরীর ঠান্ডা রাখে। শরীরের কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে, পেশী মজবুত করে। আমলকির টক ও তেতো মুখে রুচি ও স্বাদ বাড়ায়। রুচি বৃদ্ধি ও খিদে বাড়ানোর জন্য আমলকী গুঁড়োর সঙ্গে সামান্য মধু ও মাখন মিশিয়ে খাওয়ার আগে খেতে পারেন।

১২. চুলের সমস্যা দূর করে:  আমলকির তৈল মাথা ঠান্ডা রাখে। কাঁচা বা শুকনো আমলকি বেটে একটু মাখন মিশিয়ে মাথায় লাগালে খুব তাড়াতাড়ি ঘুম আসে। কাঁচা আমলকি বেটে রস প্রতিদিন চুলে লাগিয়ে দু/তিন ঘন্টা রেখে দিতে হবে। এভাবে একমাস মাখলে চুলের গোড়া শক্ত, চুল উঠা এবং তাড়াতড়ি চুল পাকা বন্ধ হবে।এটি চুলের খুসকির সমস্যা দূর করে ও পাকা চুল প্রতিরোধ করে।

১৩. কোষ্ঠকাঠিন্য ও পাইলস: আমলকির রস কোষ্ঠকাঠিন্য ও পাইলসের সমস্যা দূর করতে পারে।

১৪. হজমে সমস্যা: আধা চূর্ণ শুষ্ক ফল এক গ্লাস পানিতে ভিজিয়ে খেলে হজম সমস্যা কেটে যাবে। খাবারের সঙ্গে আমলকির আচার হজমে সাহায্য করে।

১৫.ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে: প্রতিদিন সকালে আমলকির রসের সঙ্গে মধু মিশে খাওয়া যেতে পারে। এতে ত্বকের কালো দাগ দূর হবে ও ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়বে।

১৬.নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ: প্রতিদিন আমলকির রস খেলে নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ দূর হয় এবং দাঁত শক্ত থাকে।

১৭. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা: রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং মানসিক চাপ কমায়। কফ, বমি, অনিদ্রা, ব্যথা-বেদনায় আমলকি অনেক উপকারী।

১৮. ব্রঙ্কাইটিস ও এ্যাজমা: ব্রঙ্কাইটিস ও এ্যাজমার জন্য আমলকির জুস উপকারী।

১৯. ব্লাড সুগার: ব্লাড সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণে রেখে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে, কোলেস্টেরল লেভেলেও কম রাখাতে যথেষ্ট সাহায্য করে।

২০. গ্যাস্ট্রিক বা আলসার: সাধারণত লোকজন গ্যাস্ট্রিক বা আলসার, বলতে যা বুঝায় তাকে পেপটিক আলসার বলে। নিয়মিত আমলকি খেলে পেটের এই আলসার দূর হয়।

২১. শরীর এর টক্সিন: আমলকীতে সলিউবল ফাইবার থাকে। এটি শরীর থেকে টক্সিন  উপাদান বের করে দিতে সাহায্য করে এবং হজমে সাহায্য করে।

২২. ইনসুলিন বৃদ্ধি: পলিফেনল রয়েছে যা রক্তে অক্সিডেটিভ শর্করা থেকে শরীর রক্ষা করে। এটি শরীরে ইনসুলিন শুষে নিতে সাহায্য করে যা ডায়াবেটিস কমাতে সাহায্য করে।

২৩. অতিরিক্ত ওজন: ওজন হ্রাস করতে আমলকি সাহায্য নিতে পারেন। এটি নিয়মিত খেলে শরীরের প্রোটিনের স্তর বৃদ্ধি করে, যা দেহের চর্বি কাটতে সাহায্য করে। এটি খেলে হজম শক্তি বেড়ে যায়। ফলে মানুষ মুটিয়ে যায় না। তাই ওজন কমাতে চাইলে প্রতিদিন আমলকি খাওয়ার চেষ্টা করুন।

২৪. হাড় মজবুত: আমলকিতে প্রচুর পরিমাণ ক্যালসিয়াম রয়েছে। যা হাড় মজবুত করতে সাহায্য করে।

২৫. রক্ত পরিষ্কার করতে: রক্ত পরিষ্কার করতে আমলকি বেশ কার্যকর। এর অ্যান্টি অক্সিডেন্ট উপাদান যা শরীর থেকে টক্সিন উপাদান সব দূর করে দেয়। নিয়মিত আমলকি খেলে তা রক্তে হিমোগ্লোবিন বৃদ্ধি করে।

প্রতিদিন একটি আমলকি খাওয়ার অভ্যাস করুন। প্রতিদিন সকালে ১/২ কাপ আমলকির রস আপনাকে উপরের সমস্ত রোগ থেকে মুক্ত থাকতে সাহায্য করবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন