টিউমার (Tumor) চিকিৎসায় হোমিওপ্যাথি

31

টিউমার (Tumor) ইংরেজি শব্দ। এর বাংলা নাম অর্বুদ। টিউমার বলতে শরীরের যে কোনো স্থানে কোষ সমূহ যদি ধীরে ধীরে বা দ্রুততার সঙ্গে অস্বাভাবিক ও অসামঞ্জস্যভাবে ফুলে ওঠে বা এক কথায় টিউমার হলো মূল দেহে নতুন কোষের সংযোজন।

সাধারণত হাঁড়ের যেকোনো এক প্রান্তে এ সমস্যা হয়। তবে হাঁড়ের মধ্যেখানেও এ এ সমস্যা হতে দেখা যায়। সাধারণত বয়ঃসন্ধির পর থেকেই ২৫-৩০ বছরের মধ্যে এ রোগে বেশি আক্রান্ত হয়। এ সমস্যা হলে যথারীতি হাঁড়ের ওই অংশ ফুলে যায়। হাত দিয়ে অনুভব করলে রোগী নিজেই এটা বুঝতে পারে।

একই হাড়ে এক বা একাধিক টিউমার দেখা দিতে পারে। এক্সরে করে এ সমস্যা এর উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়।
মূল থেকে পূর্ণাঙ্গ ভাবে রোগ আরোগ্য করা হোমিওপ্যাথি এর বলিষ্ঠ দাবি।

টিউমার প্রধানত ৩ প্রকার:

১. হিস্টোমা বা কানেক্টিভ টিস্যু টিউমার (Histiocytoma or Connective Tissue Tumor)
২. সাইটোমা (Cytoma)
৩. টেরাটোমা বা মিক্সড সেল টিউমার (Teratoma or mixed cell tumor)

হিস্টোমা বা কানেক্টিভ টিস্যু টিউমার ২ প্রকার:
১. বিনাইন (Binain)
২. ম্যালিগন্যান্ট (Malignant)

বিনাইন টিউমার: বিনাইন টিউমার তুলতুলে নরম হয়। খুব আস্তে আস্তে বৃদ্ধি পায়। এর কোনো আবরণ থাকেনা। এর উপরের চামড়া পৃথক মনে হয়। চাপ দিলে এতে কোনো ব্যাথা অনুভূত হয়না। আশেপাশের গ্রন্থিসমূহ আক্রান্ত হয় না।

ম্যালিগন্যান্ট টিউমার: এটা নিরেট বা শক্ত হয়। এটা খুব দ্রুত বড় হয়। এতে আবরণ থাকে। এর উপরের চামড়া পৃথক মনে হয় না। চাপ দিলে এতে কোনো ব্যাথা অনুভূত হয়। আশেপাশের গ্রন্থিসমূহ আক্রান্ত হয়। অশ্রপ্রচার করলে ক্ষতি হয় এবং ক্যান্সার ও হতে পারে।

শরীরের বিভিন্ন স্থানের টিউমার বিভিন্ন নাম পরিচিত:
১. প্যাপিলোমা (Papilloma)= নাক, জরায়ু প্রভৃতি সৈলস্মিক ঝিল্লির নাম
২. মাইওমা (Myoma)= জরায়ু, পাকস্থলী প্রভৃতি স্থানের মাংসপেশির নাম
৩. এপিথেলিওমা (Epithelioma)= চর্মের টিউমার এর নাম
৪. লিপোমা (lipoma)= পিঠ, কাঁধ, প্রভৃতি স্থানে ফ্যাটিটিস্যু এর নাম
৫. কন্ড্রোমা (Condorma)= বোনের কার্টিলেজেরএর নাম
৬. অস্টিওমা (Osteoma)= মাথার খুলি, মুখমন্ডল, নাসিকা প্রভৃতি স্থানে হাঁড়ের অস্থির নাম
৭. গ্লাইওমা (Glioma)= মস্তিস্ক কোষের নাম
৮. হেমান জিওমা (heman gioma) = মস্তিস্ক, লিভার, এইসব স্থানে রক্ত নালিকার নাম
৯. লিম্ফ্যানজিওমা (লিম্ফোমা)= ঘাড়, জিব্বা, বগল এইসব স্থানের লসিকা নালীর নাম
১০. সার্কোমা (Sarcoma)= সাধারণতঃ হাঁড়ের কশেরুকা, চর্বি বা মাংসপেশির ক্যান্সার কে, (সংযোগ কলা উৎসের ক্যান্সার). সাধারণত কম বয়সে সার্কোমা টিউমার দেখা যায়।
১১. কার্সিনোমা (Carcinoma)= এটা খুব সাধারণ ধরণের ক্যান্সার। ফুসফুস, মলদ্বার, স্তন, ডিম্বাশয়ের ক্যান্সার এর অন্তর্ভুক্ত। (আবরণী কলা উৎসের ক্যান্সার). সাধারণত ৪০ বছর বয়সের পর কার্সিনোমা টিউমার দেখা যায়।
১২. লিউকিমিয়া (Leukemia): রক্ত কোষের ক্যান্সার কেই লিউকিমিয়া বলে। এই রক্তকোষগুলো হাঁড়ের মজ্জা থেকে জন্ম নেয়।

টিউমার এর কারণ:

১. যে সব মহিলা ডিএন্ডসি বা এম আর করে /যে সব মহিলা প্রসবকালে প্রচুর কষ্ট হয়/যেসব মহিলা ঘন ঘন সন্তান প্রসব করে/যে সব মহিলার অতি অল্প বয়সে বিয়ে হয় / সেই সব মহিলার জরায়ুতে আঘাতপ্রাপ্ত হয়। ফলে জরায়ু, জরায়ু মুখ, ডিম্বকোষ, স্তন গ্রন্থিতে এ সমস্যা দেখা দিতে পারে।
২. পুরুষদের অন্ডকোষের কোনো রকম আঘাত লাগলে অন্য কোষ ফুলে শক্ত হয়ে এ সমস্যা দেখা দেয়
৩. কোনো কোনো পরিবারে বংশগতভাবে এ সমস্যা দেখা দিতে পারে
৪. আঘাত, ঘর্ষণ, পেষণ বা উদ্দীপনার ফলে স্থান বিশেষ এডিনোমা সৃষ্টি হতে পারে
৫. যারা কলকারখানায় চিমনি পরিষ্কার করে তাদের বিভিন্ন স্থানে এ সমস্যা দেখা দিতে পারে।
৬. পুরোনো পোড়া ঘায়ে এ সমস্যা বা ক্যান্সার দেখা দিতে পারে।

৭. আলকাতরা, সেল অয়েল সুট ইত্যাদি রাসায়নিক দ্রব্য চামড়ার উপর প্রদাহ সৃষ্টি করে এ সমস্যা দেখা দিতে পারে।
৮. খাদ্যর পরিপুষ্টির অভাবে এ সমস্যা দেখা দিতে পারে
৯. গায়ক, বংশীবাদক এদের গলায় বা ফুসফুসে এ সমস্যা দেখা দিতে পারে
১০. ইস্ট্রিন হরমোন এর অভাবে এ সমস্যা দেখা দিতে পারে
১১. জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণ করার ফলে নারীদের সাধারণ হরমোন বিকাশ বাধা গ্রস্থ হয় ফলে জরায়ুতে বা স্তনে বা যোনিতে এ সমস্যা দেখা দিতে পারে

উপরোক্ত কারণ ছাড়াও নানাবিধ কারণে এ সমস্যা দেখা দিতে পারে। হোমিওপ্যাথি দৃষ্টিতে যাদের সোর, সিফিলিস, সাইকোসিস, ও টিউবার্কুলার মায়াজম সংমিশ্রিত থাকে তাদের এ সমস্যা দেখা দিতে পারে।

এ সমস্যার সাধারণ চিকিৎসা অপারেশন। কিন্তু অনেক সময় অপারেশন করলে ক্যান্সার এ আক্রান্ত হতে পারে। ম্যালিগন্যান্ট টিউমার অপারেশন করা নিরাপদ নয়। হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার মাধ্যমে সবরকম টিউমারকে আরোগ্য করা সম্ভব।


আরও পড়ুন